Directly contributed to the IT skills development of around 20,000 people and indirectly around 30,000 people. The opportunity to play a role in the branding and business development of over 200 organizations

Get In Touch

রিয়েল এস্টেট ও হোটেল শেয়ার বিজনেসে গ্রোথ আনতে চান?

আপনি একটি সুন্দর প্রজেক্ট বানিয়েছেন। লোকেশন ভালো, কাগজপত্র ঠিক, রিটার্নও আকর্ষণীয়। তারপরও বিনিয়োগকারী আসছে না। হুমম , অনেকের নিজের পরিচিতদের মধ্য থেকে সেল হয়ে যায়, সেই হিসেবটা এখানে বাদ রেখে রিয়েল সেলটাকে হিসেব করতে চাই।

সমস্যা কোথায়?

সমস্যা প্রজেক্টে নয়। সমস্যা আপনার মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজিতে। রিয়েল এস্টেট আর হোটেল শেয়ার বিজনেস অন্য সব বিজনেসের চেয়ে আলাদা। এখানে কাস্টমার একটা পণ্য কেনে না, সে একটা সিদ্ধান্ত নেয় — জীবনের বড় একটা সিদ্ধান্ত। তাই এই সেক্টরে সাধারণ মার্কেটিং কখনোই কাজ করে না।

বিজনেস গ্রোথ কনসালটেন্ট হিসেবে আমি যত রিয়েল এস্টেট আর হোটেল শেয়ার বিজনেস দেখেছি, তাদের সমস্যা প্রায় একই জায়গায়। আজকে সেই জায়গাগুলোই ধরিয়ে দেব এবং বলব কীভাবে বের হবেন।

ভুল ০১আপনি প্রজেক্ট বিক্রি করছেন, স্বপ্ন বিক্রি করছেন না

ফেসবুকে যান। রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলোর পোস্ট দেখুন। ৯০% পোস্টের ভাষা একই রকম — “প্রিমিয়াম লোকেশন, আকর্ষণীয় রিটার্ন, সীমিত শেয়ার বাকি।”

এই ভাষায় কেউ বিনিয়োগ করে না।

কারণ মানুষ বিনিয়োগ করে একটা ভবিষ্যতের জন্য। একজন চাকরিজীবী বিনিয়োগ করে কারণ সে ভয় পাচ্ছে — অবসরের পর আয় থাকবে কি না। একজন প্রবাসী বিনিয়োগ করে কারণ সে চায় দেশে ফিরে নিশ্চিন্তে থাকতে। একজন বাবা বিনিয়োগ করে কারণ সে চায় সন্তানের ভবিষ্যৎ নিরাপদ হোক।

আপনি কি এই মানুষগুলোর সেই গভীর ভয় আর স্বপ্নের কথা বলছেন? নাকি শুধু বলছেন “বার্ষিক ১৫% রিটার্ন”?

সংখ্যা মানুষকে ভাবায়, গল্প মানুষকে সিদ্ধান্ত নেওয়ায়। নোবেল বিজয়ী ড. Daniel Kahneman বলেছেন মানুষ ৯০% আবেগ দিয়ে কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। তাহলে আপনার মার্কেটিং কেন শুধু লজিক দিয়ে তৈরি?

করণীয়: আপনার পরবর্তী কন্টেন্টে একটা মানুষের গল্প বলুন। একজন কাল্পনিক কিন্তু বাস্তবসম্মত চরিত্র নিন যে ঠিক আপনার টার্গেট কাস্টমারের মতো। তার ভয়, তার স্বপ্ন, তার দ্বিধা — সব লিখুন। তারপর দেখান আপনার প্রজেক্ট কীভাবে সেই গল্পের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

ভুল ০২সবাইকে একই কথা বলছেন

“বিনিয়োগকারী” বলতে একটা মানুষ আসে না, আসে অনেক রকম মানুষ। যার হাতে ৫ লাখ টাকা আছে কিন্তু ব্যাংকে রাখতে ভয় পাচ্ছে, আর যার হাতে ৫০ লাখ আছে কিন্তু পুরোটা একজায়গায় রাখতে চাইছেন না — এই দুজনকে একই বার্তা দিলে দুজনের কাছেই পৌঁছাবেন না।

রিয়েল এস্টেট ও হোটেল শেয়ার বিজনেসে মূলত তিন ধরনের বিনিয়োগকারী থাকে। প্রথম গ্রুপ হলো Growth Seeker — যারা চায় টাকা বাড়ুক, ROI দেখতে চায়, ক্যালকুলেশন পছন্দ করে। দ্বিতীয় গ্রুপ হলো Security Seeker — চাকরিজীবী বা মধ্যবিত্ত, ভবিষ্যতের নিরাপত্তা খুঁজছে, ঝুঁকি নিতে ভয় পায়। তৃতীয় গ্রুপ হলো Small Saver — ব্যাংকে অল্প সঞ্চয় আছে, বড় বিনিয়োগে আগ্রহ আছে কিন্তু সাহস নেই।

এই তিনটি গ্রুপের ভাষা আলাদা, ভয় আলাদা, স্বপ্ন আলাদা।

করণীয়: তিনটি আলাদা কন্টেন্ট সিরিজ বানান। Growth Seeker-এর জন্য তুলনামূলক ডেটা ও ROI চার্ট। Security Seeker-এর জন্য “অবসরের পর আপনার আয় নিশ্চিত থাকবে তো?” টাইপের ইমোশনাল কন্টেন্ট। Small Saver-এর জন্য “মাত্র ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করুন” টাইপের সহজলভ্য বার্তা।

 

ভুল ০৩ট্রাস্ট তৈরির আগেই সেলস করতে নামছেন

রিয়েল এস্টেটে মানুষের সবচেয়ে বড় ভয় একটাই — প্রতারিত হওয়ার ভয়। বাংলাদেশে এত প্রজেক্ট মাঝপথে আটকে গেছে, এত মানুষ টাকা হারিয়েছে যে এই সেক্টরে বিশ্বাস অর্জন করা এখন সবচেয়ে কঠিন কাজ।

আপনি হয়তো সৎ। আপনার প্রজেক্ট হয়তো সত্যিকার অর্থেই ভালো। কিন্তু কাস্টমার সেটা জানবে কীভাবে?

প্রথম দেখাতেই একজন মানুষকে ৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করতে বলা মানে তার সাথে পরিচয় হওয়ার আগেই প্রোপোজ করা। এই ভুল প্রতিটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানি করে।

করণীয়: ট্রাস্ট তৈরির জন্য একটা পরিকল্পিত পথ তৈরি করুন। প্রজেক্টের নিয়মিত লাইভ আপডেট দিন। নির্মাণকাজের ড্রোন ফুটেজ শেয়ার করুন। লিগ্যাল কাগজপত্র প্রকাশ্যে আলোচনা করুন। বিনিয়োগের ঝুঁকি নিয়ে নিজেই কথা বলুন — কারণ যে কোম্পানি নিজেই ঝুঁকির কথা বলে, মানুষ তাকে বেশি বিশ্বাস করে। কাস্টমার কমপক্ষে ১৫-২০ বার আপনার কন্টেন্ট দেখার পর সিদ্ধান্ত নেবে — এই পুরো সময়টা তার সাথে থাকুন।

আপনারা যদি কক্সবাজারে কিংবা কুয়াকাটাতে হালাল বিনিয়োগে আগ্রহী হোন, তাহলে নিয়মিত অফার জানতে আমার নিজের কোম্পানী Bay Wave Hotel & Resorts Ltd, অফিসিয়াল পেইজ লাইক দিয়ে রাখুন।

ভুল ০৪শুধু অ্যাড চালাচ্ছেন, কমিউনিটি বানাচ্ছেন না

একটা হিসাব করুন। ফেসবুক অ্যাড থেকে আসা একটা কোয়ালিফাইড লিডের খরচ কত? আর সেই লিড কনভার্ট হওয়ার সম্ভাবনা কত? অপরিচিত মানুষকে ফোন করলে সেলস হওয়ার সম্ভাবনা সাধারণত ১-২%। কিন্তু যে মানুষ আপনার ইভেন্টে এসেছে, আপনার কমিউনিটিতে আছে, আপনাকে চেনে — তার কনভার্সন রেট ১০-১৫% পর্যন্ত হতে পারে।

পার্থক্যটা কোথায়? ট্রাস্টে।

একটা এক্টিভ ইনভেস্টর কমিউনিটি আপনার সবচেয়ে বড় মার্কেটিং অ্যাসেট। এই কমিউনিটিতে যারা থাকবে তারা শুধু কাস্টমার নয়, তারা আপনার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হয়ে যাবে।

করণীয়: একটি ইনভেস্টমেন্ট-কেন্দ্রিক কমিউনিটি গ্রুপ খুলুন — কিন্তু সেটার নাম আপনার কোম্পানির নামে নয়, জেনারেল বিষয়ে রাখুন যেমন “স্মার্ট ইনভেস্টর কমিউনিটি” বা “হালাল ইনভেস্টমেন্ট ক্লাব”। সেখানে নিয়মিত বিনিয়োগ সংক্রান্ত টিপস, মার্কেট আপডেট, এক্সপার্ট আলোচনা দিন। এটা করলে আপনি বিক্রেতা থেকে উপদেষ্টা হয়ে যাবেন — আর মানুষ উপদেষ্টার কাছ থেকেই কেনে।

 

ভুল ০৫ইভেন্টকে খরচ মনে করছেন, বিনিয়োগ মনে করছেন না

বেশিরভাগ রিয়েল এস্টেট কোম্পানি ইভেন্টকে বাড়তি খরচ মনে করে। এটা বড় ভুল।

একটি ভালোভাবে পরিকল্পিত ইভেন্ট একসাথে তিনটি কাজ করে — ব্র্যান্ড অ্যাওয়ারনেস তৈরি করে, সরাসরি লিড জেনারেট করে, এবং মিডিয়া কভারেজ এনে দেয়।

হোটেল প্রজেক্টের লোকেশনে ক্যাম্পিং ইভেন্ট করুন — কাস্টমার সেই মাটির সাথে ইমোশনাল কানেকশন তৈরি করবে, বিনিয়োগ করা তার জন্য অনেক সহজ হবে। বিনিয়োগ বিষয়ক ওয়ার্কশপ করুন — ভয় দূর হবে, বিশ্বাস তৈরি হবে। ইসলামিক ফিন্যান্স সেমিনার করুন — একটা বিশাল কিন্তু অবহেলিত বিনিয়োগকারী গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাবেন। ফ্রি লিগ্যাল কনসালটেন্সি ডে করুন — মানুষের আস্থা অর্জনের সবচেয়ে শক্তিশালী উপায় এটা।

এই ইভেন্টগুলো থেকে আসা একটি লিড অ্যাড থেকে আসা দশটি লিডের সমান।

 

তাহলে বিজনেস গ্রোথের আসল রোডম্যাপ কী?

সহজ করে বললে তিনটি ধাপ।

প্রথম ধাপ হলো Attention — মানুষের নজর কাড়ুন কন্টেন্ট, ইভেন্ট আর পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং দিয়ে। আপনার ডিরেক্টর বা ফাউন্ডারকে সামনে আনুন, তাকে ইনভেস্টমেন্ট এক্সপার্ট হিসেবে পজিশন করুন।

দ্বিতীয় ধাপ হলো Trust — কমিউনিটি, স্বচ্ছতা আর শিক্ষামূলক কন্টেন্ট দিয়ে বিশ্বাস গড়ুন। মানুষ যখন আপনাকে এক্সপার্ট মনে করবে, সেলস এমনিতেই আসবে।

তৃতীয় ধাপ হলো Conversion — তখন অফার দিন, তখন FOMO তৈরি করুন। কারণ আগে থেকেই সম্পর্ক আছে বলে এবার FOMO কাজ করবে।

 

এই তিনটি ধাপ বাদ দিয়ে সরাসরি Conversion-এ ঝাঁপ দিলে টাকা খরচ হবে, সেলস আসবে না।

 

শেষ কথা

রিয়েল এস্টেট আর হোটেল শেয়ার বিজনেসে মানুষ ইট-বালু-সিমেন্ট কেনে না। সে কেনে বিশ্বাস, নিরাপত্তা আর একটা ভালো ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি।

আপনি যদি সেই বিশ্বাসটা তৈরি করতে পারেন, যদি সেই স্বপ্নের ভাষায় কথা বলতে পারেন — তাহলে সেলস আপনার পেছনে দৌড়াবে, আপনাকে সেলসের পেছনে দৌড়াতে হবে না।

মার্কেটিং মানে বাটন টেপা নয়। মার্কেটিং মানে মানুষের আস্থার গল্প ফাঁদা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *